Buying a flat for the first time

Buying a flat for the first time

Buying a flat for the first time: প্রথমবার ফ্ল্যাট কেনার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা বা মাথা গোঁজার ঠাঁই প্রতিটি মানুষের আজীবনের স্বপ্ন। তবে buying a flat for the first time বা প্রথমবার ফ্ল্যাট কেনার বিষয়টি যেমন উত্তেজনার, তেমনি এটি বেশ জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা এবং সঠিক তথ্যের অভাবে আপনার কষ্টার্জিত বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

বাজেটের সঠিক পরিকল্পনা ও আর্থিক প্রস্তুতি

ফ্ল্যাট কেনার কথা ভাবলে প্রথমেই আসে বাজেটের বিষয়। আপনার সঞ্চয় কত এবং আপনাকে কত টাকা লোন নিতে হতে পারে, তার একটি খসড়া তৈরি করুন। মনে রাখবেন, ফ্ল্যাটের মূল দামের বাইরেও রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি, ইউটিলিটি কানেকশন চার্জ এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনের মতো আরও অনেক খরচ থাকে। Buying a flat for the first time এর ক্ষেত্রে এই আনুষঙ্গিক খরচগুলো সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

বাজেট নির্ধারণের সময় আপনার মাসিক আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে হোম লোনের কিস্তি নির্ধারণ করুন। ব্যাংকের সুদের হার এবং প্রসেসিং ফি যাচাই করে নিন। অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ কেবল ফ্ল্যাটের দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু পরবর্তীতে অন্যান্য খরচ সামলাতে হিমশিম খায়। তাই একটি আর্থিক বাফার বা আপদকালীন তহবিল হাতে রেখে আগানোই হবে সঠিক কৌশল।

সঠিক অবস্থান বা লোকেশন নির্বাচন

আবাসন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘লোকেশন’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। আপনি যে এলাকায় ফ্ল্যাট কিনছেন, সেখান থেকে আপনার অফিস, সন্তানদের স্কুল এবং হাসপাতালের দূরত্ব কতটুকু তা যাচাই করুন। এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রাস্তার প্রশস্ততা ভবিষ্যতে ফ্ল্যাটের দাম বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। Buying a flat for the first time এর ক্ষেত্রে এমন এলাকা বেছে নেওয়া উচিত যেখানে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত।

নিরাপদ এবং উন্নত এলাকায় ফ্ল্যাট কিনলে জীবনযাত্রার মান যেমন বাড়ে, তেমনি ভবিষ্যতে সেটি ভাড়া দেওয়া বা বিক্রি করাও সহজ হয়। বাজার দর যাচাই করতে ওই এলাকার আশেপাশে অন্তত ৩-৪টি প্রজেক্ট ঘুরে দেখুন। গ্যাস, পানি এবং বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ আছে কি না, তা স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনে নিন। একটি ভালো লোকেশন আপনার বিনিয়োগকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখে।

আইনি কাগজপত্র এবং জমির মালিকানা যাচাই

ফ্ল্যাট কেনার সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হলো লিগ্যাল ডকুমেন্টস বা আইনি কাগজপত্র যাচাই করা। আপনি যার কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিনছেন, সেই ডেভেলপার বা জমির মালিকের নামে জমির নামজারি বা মিউটেশন করা আছে কি না তা নিশ্চিত করুন। সিএস, এসএ এবং আরএস পর্চাগুলো পরীক্ষা করে দেখুন কোনো ত্রুটি আছে কি না। Buying a flat for the first time এর সময় একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

ডেভেলপার কোম্পানির সাথে চুক্তির আগে তাদের রাজউক (RAJUK) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে কি না এবং বিল্ডিং প্ল্যান পাস করা কি না তা দেখে নিন। বায়না নামা বা সেল এগ্রিমেন্ট করার সময় প্রতিটি শর্ত খুঁটিয়ে পড়ুন। বিশেষ করে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময়সীমা এবং বিলম্ব হলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। কাগজপত্র শতভাগ সঠিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো বড় অঙ্কের লেনদেন করবেন না।

ডেভেলপার কোম্পানির প্রোফাইল ও কাজের মান

বর্তমানে বাজারে অসংখ্য রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রয়েছে, তবে সবার মান এক নয়। ফ্ল্যাট কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ডেভেলপার কোম্পানির পূর্বের প্রজেক্টগুলো ঘুরে দেখুন। তারা সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তান্তর করে কি না এবং তাদের নির্মাণের গুণগত মান কেমন, তা জানার চেষ্টা করুন। Buying a flat for the first time এর ক্ষেত্রে কোনো স্বনামধন্য এবং অভিজ্ঞ কোম্পানির সাথে চুক্তি করা ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

নির্মাণে ব্যবহৃত রড, সিমেন্ট এবং অন্যান্য উপকরণের মান সম্পর্কে জানুন। এছাড়া বিল্ডিংয়ের স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ভূমিকম্প সহনশীল কি না, তা আর্কিটেক্টের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন। অনেক সময় কম দামে ফ্ল্যাট পাওয়া গেলেও নির্মাণের মান খারাপ হওয়ায় ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাই সস্তা প্রলোভনে না পড়ে দীর্ঘস্থায়ীত্বের দিকে নজর দিন।

ফ্ল্যাটের ডিজাইন ও স্পেস ইউটিলাইজেশন

একটি ফ্ল্যাট শুধু দেয়াল আর ছাদ নয়, এটি আপনার প্রতিদিনের বসবাসের জায়গা। তাই ফ্ল্যাটের লেআউট বা নকশা আপনার পরিবারের চাহিদার সাথে মিলছে কি না তা দেখুন। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা (Cross Ventilation) এবং বারান্দার অবস্থান যাচাই করুন। Buying a flat for the first time এর ক্ষেত্রে অনেকে কেবল স্কয়ার ফিট দেখে কেনেন, কিন্তু রুমের পজিশন বা করিডোরে কতটুকু জায়গা নষ্ট হচ্ছে তা খেয়াল করেন না।

ফ্ল্যাটের কমন স্পেস যেমন, লিফট, সিড়ি, গ্যারেজ এবং জেনারেটর রুমের সুবিধাগুলো দেখে নিন। পার্কিং স্পেসটি আপনার গাড়ির জন্য পর্যাপ্ত কি না এবং সেটি সহজে ব্যবহারযোগ্য কি না তা নিশ্চিত করুন। আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে সাধারণত জিম, খেলার মাঠ বা কমিউনিটি হলের সুবিধা থাকে, যা আপনার জীবনযাত্রায় বাড়তি মাত্রা যোগ করতে পারে। ছোট প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় খেয়াল করলে আপনার নতুন ঘরটি হবে আরামদায়ক।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, buying a flat for the first time আপনার জীবনের অন্যতম বড় একটি মাইলফলক। আবেগতাড়িত না হয়ে প্রতিটি পদক্ষেপে যুক্তি এবং সঠিক তথ্য ব্যবহার করা উচিত। বাজেট নির্ধারণ থেকে শুরু করে লোকেশন নির্বাচন এবং আইনি জটিলতা নিরসন, সবকিছু সঠিকভাবে সম্পন্ন করলে আপনার স্বপ্নের ফ্ল্যাটটি হবে আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ও আনন্দময় ঠিকানা। সঠিক বিনিয়োগই নিশ্চিত করবে আপনার সুন্দর ভবিষ্যৎ।

Facebook

All Categories

Get Free Consultations

SPECIAL ADVISORS
Quis autem vel eum iure repreh ende