
পর্চা, খতিয়ান ও নামজারি নিয়ে আলোচনা: বিস্তারিত গাইড
বাংলাদেশে জমি ক্রয়-বিক্রয় অথবা উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি গ্রহণের সময় অনেকেই ‘পর্চা’, ‘খতিয়ান’ এবং ‘নামজারি’ শব্দগুলির অর্থ নিয়ে বিভ্রান্ত হন। যদিও এই তিনটি শব্দ একই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত, কিন্তু এগুলোর কার্যকারিতা এবং ব্যবহারে কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। এই ব্লগ পোস্টে আমরা পর্চা, খতিয়ান এবং নামজারি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রদান করবো, তাদের মধ্যে পার্থক্যগুলি নির্ধারণ করবো এবং কেন এই জ্ঞান জমি সংক্রান্ত লেনদেনের জন্য অপরিহার্য তা আলোচনা করবো।
Table of Contents
Toggleপর্চা কী?
পর্চা হলো জমি মালিকানার একটি তথ্যবিবরণী, যা নির্দিষ্ট মৌজা এবং দাগ অনুযায়ী সংকলিত হয়। এটি সরকারের ভূমি অফিস থেকে বা অনলাইনে eporcha.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে। পর্চাতে জমির বিস্তারিত মালিকানা তথ্য, অবস্থান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী উল্লেখ করা হয়।
পর্চার বিভিন্ন প্রকারভেদ:
১. সিএস পর্চা
২. এসএ পর্চা
৩. আরএস পর্চা
৪. বিএস পর্চা
এই পর্চাগুলির মধ্যে সর্বশেষ এবং হালনাগাদ সংস্করণটি সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
খতিয়ান (Khatian) কী?
খতিয়ান এবং পর্চা মাঝে মাঝে একই অর্থে ব্যবহার করা হলেও আইনগত দিক থেকে খতিয়ান বেশি নির্ভরযোগ্য माना হয়। এটি জমির মালিকানার একটি সংক্ষিপ্ত সার-নথি যা জমির ব্যবহার, দাগ, মালিকানা এবং খাজনা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে। সাধারণত এটি একটিই উল্লেখিত মালিকের অধীনে থাকা জমির একাধিক দাগের সম্মিলিত তথ্য প্রদান করে।
খতিয়ানের মধ্যে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকে:
- জমির মালিকের নাম
- জমির পরিমাণ ও দাগ নম্বর
- জমির শ্রেণী ও ব্যবহার
- খাজনা সম্পর্কিত তথ্য
নামজারি বা মিউটেশন কী?
নামজারি হলো জমির মালিকানা পরিবর্তিত হওয়ার পর সরকারি রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া। এটি মূলত উত্তরাধিকার, হেবা, দলিল, বা আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। নামজারি না করা হলে সরকারি খতিয়ানে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে না, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
নামজারি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
১. সরকারি খতিয়ানে নাম হালনাগাদ করা হয়।
২. জমি বিক্রি বা দান করার প্রক্রিয়া সহজতর হয়।
৩. ব্যাংক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করে।
৪. ভবিষ্যতের বিরোধ এড়ানো সম্ভব হয়।

অনলাইনে কিভাবে পর্চা ও খতিয়ান কিভাবে বের করবেন তা নিচে উল্লেখ করা হল:
১. পর্চা ও খতিয়ান সম্পর্কে জানতে চাইলে ভিসিট করুন।
২. ওয়েবসাইট এ ঢুকে ‘সার্চ বাই খতিয়ান’ বা ‘সার্চ বাই দাগ নাম্বার’ এ প্রবেশ করুন ।
৩. তিনটি অপশন দেখবেন যথা: জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ তারপর অপশন সিলেক্ট করুন।
৪. তারপর সার্চ করুন দাগ বা খতিয়ান নাম্বার দিয়ে।
নামজারী করার নিয়ম
১. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন (যেমন: দলিল, পর্চা, খাজনা রশিদ ইত্যাদি)
২. তারপর আবেদনপত্র পূরণ করুন এবং এসি ল্যান্ড অফিসে এ জমা দিন।
৩. নির্ধারিত ফি প্রধান করুন।
৪. তারপর শুনানিতে অংশগ্রহণ করুন।
৫. অনুমোদন পাওয়ার পর নামজারী সনদ গ্রহণ করুন।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস:
১. উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহ করুন।
২. আবেদনকারীর ছবি ও NID সংগ্রহ করুন।
৩. মিউটেশন ফি জমাদেয়ার রশিদ।
৪. পূর্বের খতিয়ান ও দাগ নাম্বার(বাধ্যতামূলক)
বিভ্রান্তি নিরসনে যা যা করবেন
১. জমি কেনার আগে যা যা যাচাই করবেন: পর্চা, খতিয়ান ও নামজারী
২. যাচাইয়ের জন্য অনলাইন বেঁচে নিতে পারেন।
৩. ভূমি অফিস থেকে আপডেটেড তথ্য সংগ্রহ করুন।
৪. প্রয়োজনে আইনি সুপারিশ নিন।
নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড – কেন?
নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড আপনাকে/আপনাদেরকে জমি কেনা-বেচার বেপারে, পর্চা-খতিয়ান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে, নামজারি, দলিল প্রস্তুতকরণ, আইনি সহায়তা ইত্যাদি প্রদান করে থাকে।
আমাদের যোগাযোগ করুন:
ওয়েবসাইট
ইনস্টাগ্রাম
ফেইসবুক
এক্স(টুইটার)