নামজারি করতে কত টাকা লাগে? – বাংলাদেশে সম্পত্তির নামজারি খরচ ও প্রক্রিয়া

নামজারি করতে কত টাকা লাগে? – বাংলাদেশে সম্পত্তির নামজারি খরচ ও প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো নামজারি করা। যদি আপনি জমির প্রকৃত মালিক হতে চান, তাহলে সরকারের রেকর্ডে আপনার নামে জমির নামজারি করানো অত্যন্ত জরুরী। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, নামজারি করতে আসলে কতো খরচ হয়? এই ব্লগ পোস্টে, আমরা নামজারির খরচ, প্রয়োজনীয় বিধিমালা, অনলাইনে আবেদন করার প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করবো।

নামজারি কী?

নামজারি হচ্ছে জমির মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া, যা সরকারীভাবে স্বীকৃত। জমি কেনার পর রেজিস্ট্রি করানোর পর, রাজস্ব রেকর্ডে ক্রেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নামজারি করা প্রয়োজন। যদি এটি করা না হয়, তাহলে সরকারী রেকর্ডে আপনি জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে স্বীকৃত হবেন না।
নামজারি করতে কত টাকা খরচ হয়? (২০২৫ সালের হালনাগাদ)

নামজারি ফি সাধারণত কয়েকটি পর্যায়ে বিভক্ত করা হয়:

– নামজারি ফি (সরকারি ফি): প্রতি খতিয়ান বা মৌজা অনুযায়ী এটি সাধারণত ১,১০০ টাকা।

– ভ্যাট ও সেবা চার্জ: প্রায় ২০০-৩০০ টাকা খরচ হয়।

– খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন কর: অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হলেও সাধারণত এটির খরচ ২০০-৫০০ টাকার মধ্যে হয়।

– ডিজিটাল সেবা ফি (অনলাইন সেবা ফি): অনলাইনে আবেদন করার সময় ২৫-৫০ টাকা অতিরিক্ত প্রদান করতে হতে পারে।

মোট ব্যয়: সাধারণ একটি খতিয়ান বা দলিলের জন্য মোট খরচ প্রায় ১,৫০০ – ২,০০০ টাকা হতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: স্থান ও ভূমি অফিস অনুযায়ী খরচ কিছুটা কমবেশি হতে পারে। যদি কোনও এজেন্ট বা আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া হয়, তাহলে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ যুক্ত হবে।

নামজারি করতে কত টাকা লাগে? – বাংলাদেশে সম্পত্তির নামজারি খরচ ও প্রক্রিয়া
নামজারি করতে কত টাকা লাগে? – বাংলাদেশে সম্পত্তির নামজারি খরচ ও প্রক্রিয়া

নামজারি করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

– সত্যায়ী কপির দলিল
– রেজিস্ট্রেশন রশিদ
– পর্চা বা খতিয়ানের কপি
– পূর্ব মালিকের নামজারির কাগজপত্র
– হালনাগাদ খাজনার রশিদ
– আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি
– এনআইডি কার্ডের কপি

অনলাইনে নামজারি করার প্রক্রিয়া

বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার ডিজিটাল ভূমি সেবার অংশ হিসেবে নামজারি অনলাইনে করার সুযোগ প্রদান করছে। এ প্রক্রিয়ার ওয়েবসাইট হচ্ছে: ভূমি সংক্রান্ত সেবা
অনলাইন নামজারি করার জন্য পদক্ষেপগুলো নিম্নরূপ:

1. প্রথমে land.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
2. এরপর নামজারি আবেদন অপশনটি নির্বাচন করুন।
3. অনলাইন ফর্মটি পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন।
4. নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন (Bkash/Nagad/Bank)।
5. আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনি একটি ট্র্যাকিং নম্বর গ্রহণ করবেন।
6. যদি প্রয়োজন হয়, সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে আপনার সাথে যোগাযোগ করা হবে।

সাধারণত, আবেদনের ফলাফল ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রদান করা হয়।

নামজারি না করার ফলে কী কী সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে?

অনেকের ধারণা, শুধুমাত্র দলিলের মাধ্যমে মালিকানা প্রাপ্তি হয়। তবে নামজারি না করালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হতে পারে:

– আপনি আইনিভাবে মালিক হিসেবে স্বীকৃত হবেন না।
– ভূমির উন্নয়ন কর প্রদান করতে পারবেন না।
– ভবিষ্যতে জমি বিক্রয় বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কার্যকরী সমস্যা দেখা দিতে পারে।
– সরকারি প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণ হলে ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হবেন।

নামজারির পর করণীয়

নামজারি সম্পন্ন হলে আপনাকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে:

– খতিয়ানের তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।
– ভূমি কর অনলাইনে নিবন্ধন করে নিয়মিতভাবে পরিশোধ করতে হবে।
– ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।


নামজারি করতে কি আইনজীবী বা দালালের প্রয়োজন?

বর্তমান সময়ে সরকারী সেবাগুলো অনলাইনে পাওয়া অত্যন্ত সহজ, তাই আপনি যদি সঠিকভাবে আবেদন করেন, তাহলে আইনজীবী বা দালালের সাহায্য প্রয়োজন হবে না। তবে যদি আপনার দলিল বা খতিয়ান জটিল হয়, তাহলে একটি অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া ভালো।

ফ্ল্যাটের নামজারি এবং জমির নামজারির মধ্যে পার্থক্য

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্ল্যাটের নামজারি (এপার্টমেন্টের নামজারি) এবং জমির নামজারি অনুসরণ করে ভিন্ন প্রক্রিয়া। ফ্ল্যাট নামজারির ক্ষেত্রে সাধারণত RAJUK বা হাউজিং অথরিটির অনুমোদন প্রয়োজন এবং এখানে প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বা ডেভেলপার কোম্পানির সহায়তাও দরকার হয়।

নামজারি বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (FAQ):

নামজারি কতদিনে সম্পন্ন হয়?
সাধারনত এটি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়।

অনলাইন আবেদন দিলে কি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়?
হ্যাঁ, তবে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে পূরণ করা হলে দ্রুততার সাথে কাজ হয়।

নামজারি বাতিল করা সম্ভব কি?
হ্যাঁ, যদি প্রতারণা বা ভুল তথ্যের কারণে এটি করা হয়, তবে বাতিলের জন্য আবেদন করা যেতে পারে।

খতিয়ান এবং নামজারি কি একই জিনিস?
না, খতিয়ান হলো জমির রেকর্ড, যেখানে নামজারি হচ্ছে মালিকানার স্থানান্তরের রেকর্ড।

পরামর্শ – ঝুঁকি এড়িয়ে সঠিক প্রক্রিয়ায় নামজারি সম্পন্ন করুন


নামজারি প্রক্রিয়া বর্তমানে বেশ সহজসাধ্য, তবে এর সঠিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যথাযথ দলিলপত্র সহ আবেদন করলে আপনার সম্পত্তি নিরাপদ থাকবে। যদি আপনি ভুল পথে এগোতে বা দালালের উপর নির্ভর করতে থাকেন, তবে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।


আপনি যদি নামজারি, খতিয়ান, দলিল কিংবা জমি সংক্রান্ত সাহায্য প্রয়োজন হয়, তাহলে আমাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। আরও তথ্যের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজে মেসেজ করুন।

আপডেট পেতে আমাদের Instagram এবং X অ্যাকাউন্ট ফলো করুন।

Add a Comment

Your email address will not be published.

Recent Posts

All Categories
Tags
eporcha gov bd eporsha.gov.bd খতিয়ান land.gov.bd নামজারি ট্র্যাক স্ট্যাটাস অনলাইন নামজারি আবেদন অনলাইনে খাস জমির আবেদন অনলাইনে জমি রেজিস্ট্রি আবেদন আপোষ‑বণ্টননামা জমি নামজারি ই নামজারি আবেদন প্রক্রিয়া উত্তরাধিকার আইন বাংলাদেশ উত্তরাধিকার দলিল রেজিস্ট্রি পদ্ধতি ওয়ারিশান সনদ প্রক্রিয়া বাংলাদেশ খাস জমি কাকে বলে খাস জমির কাগজপত্র খাস জমির জন্য আবেদন করার নিয়ম খাস জমির নিয়ম খাস জমির মালিকানা কিভাবে পাওয়া যায় খাস জমির রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি জমি আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকার কিভাবে হয়? জমি দখল আইনের ধারা জমি দখল ফৌজদারি মামলা জমি দখলের অভিযোগ কিভাবে করবেন জমির খতিয়ান অনলাইন চেক বাংলাদেশ জমির দলিল তৈরি জমির দলিল যাচাই জমির দলিল যাচাই অনলাইন জমির দাগ নম্বর যাচাই জমির মালিকানা যাচাই অনলাইন জমির রেকর্ড সংশোধন জমি রেজিস্ট্রি দলিল যাচাই জমি রেজিস্ট্রি প্রয়োজনীয় দলিল জমি রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি ট্রান্সপারেন্ট রেজিস্ট্রি পদ্ধতি ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড নামজারি আপোষ‑বণ্টননামা বাধ্যতামূলক ২০২৫ নামজারি আবেদন প্রক্রিয়া নামজারি করার নিয়ম বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রি নিয়ম ভূমি অফিসে জমি আবেদন প্রক্রিয়া ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ভূমি মন্ত্রণালয় ভূমি সেবা আইন ভূমিহীনদের জন্য জমি বরাদ্দ মুসলিম উত্তরাধিকার হিসেব হিন্দু উত্তরাধিকার পদ্ধতি বাংলাদেশ হিন্দু মুসলিম জমি উত্তরাধিকার

Get Free Consultations

SPECIAL ADVISORS
Quis autem vel eum iure repreh ende