
জমি রেজিস্ট্রি করতে কি কি লাগে?সম্পূর্ণ গাইডলাইন
বাংলাদেশে জমি কেনা-বেচা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আইনি প্রক্রিয়া। জমির মালিকানা পরিবর্তনের প্রধান পদক্ষেপ হল জমি রেজিস্ট্রেশন বা রেজিস্ট্রি। রেজিস্ট্রি ছাড়া জমির মালিকানা স্বীকৃত হয় না, যা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই এই ব্লগে আমরা জমি রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রের তালিকা উপস্থাপন করবো।
Table of Contents
Toggleজমি রেজিস্ট্রি কী?
জমি রেজিস্ট্রি হলো ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে জমি হস্তান্তরের আইনি নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া। এটি সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনুষ্ঠিত হয়, এবং এই নথিভুক্ত দলিলটি সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়।
জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো হলো:
১.মালিকানা দলিল (Ownership Document)
বিক্রেতার নামের অধীনে থাকা মালিকানা দলিল বা বিক্রয় দলিল জমির মালিকানা প্রমাণ করে। এই দলিল ছাড়া জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
২.মিউটেশন সার্টিফিকেট ও খাজনার রশিদ
মিউটেশন সার্টিফিকেট প্রমাণ করে যে জমিটি সরকারি খতিয়ানে আপডেট করা হয়েছে এবং খাজনা সঠিকভাবে পরিশোধ করা হয়েছে।
৩.খতিয়ান ও দাগ নম্বর
সঠিক মৌজা এবং প্লট চিহ্নিতকরণের জন্য খতিয়ান ও দাগ নম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪.নামজারি বা এনাম কেস কপি (যদি প্রযোজ্য)
যদি জমিটি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়, তবে নামজারি সম্পর্কিত দলিল প্রদান করতে হবে।
৫.জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি
জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি সরবরাহ করা প্রয়োজন।
৬.টিআইএন সার্টিফিকেট (TIN Certificate)
জমি নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায়, কর সংক্রান্ত আইনের আওতায় টিআইএন নম্বরের প্রয়োজন হতে পারে।
৭.ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সনদ
সরকারি খাজনা পরিশোধের সম্পর্কিত সনদ জমা দিতে হয়।
৮.পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (যদি আবেদনকারীর অনুপস্থিতিতে প্রযোজ্য)
যদি বিক্রেতা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না থাকেন, তবে তার আইনগত প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির দলিল জমা দিতে হবে।
৯.অনুমোদিত মানচিত্র (Approved Map)
জমির সঠিক অবস্থান ও আকার চিহ্নিত করতে অনুমোদিত পরিকল্পনা বা মানচিত্রের প্রয়োজন হতে পারে।
১০.রেজিস্ট্রেশন ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি
সরকারের দ্বারা নির্ধারিত ফি এবং স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধ করতে হবে। এই ফি জমির নিবন্ধনের অভিজ্ঞান হিসেবে বিবেচিত হয়।

জমির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি কয়েকটি বড় ধাপের মাঝে বিভক্ত:
১.জমির দলিল ও তথ্যের যাচাই
প্রথমেই বিক্রেতার জমির দলিল, খতিয়ান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় হার্ড কপি ও অনলাইন তথ্য যাচাই করতে হবে (eporcha.gov.bd)।
২.আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া
একজন দক্ষ ভূমি আইনজীবীর সহায়তা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কাগজপত্রের সঠিক বিশ্লেষণে সহায়তা করে।
৩.সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আবেদন পত্র জমা
যেকোনো আবেদনপত্র সঠিকভাবে পূরণ করে সমস্ত প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রের সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দিতে হবে।
৪.ফি পরিশোধ ও স্ট্যাম্প অর্জন
রেজিস্ট্রেশনের জন্য ব্যাংকে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে স্ট্যাম্প সংগ্রহ করতে হবে।
৫.দলিলের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন ও রশিদ সংগ্রহ
সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দেওয়ার পর দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হলে রশিদ নিতে হবে।
জমি রেজিস্ট্রির খরচের বিস্তারিত বিবরণ:
– স্ট্যাম্প ডিউটি: জমির মূল্যের উপর নির্ভর করে ৩% থেকে ৫%।
– রেজিস্ট্রেশন ফি: ২% থেকে ৩%।
– আইনজীবীর ফি (যদি প্রযোজ্য): আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারণ হবে।
– দলিল লেখকের ফি: স্থির মূল্য অনুযায়ী।
জমি রেজিস্ট্রি না করালে কী সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে?- জমির মালিকানা বৈধভাবে প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
– ভবিষ্যতে জমি নিয়ে বিরোধ বা আইনি সমস্যা তৈরি হতে পারে।
– ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণে বাধা আসতে পারে।
অনলাইন জমি রেজিস্ট্রির সুবিধাগুলি:
বর্তমানে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কিত তথ্যগুলি আপনারা [এখানে] এবং [এখানে] দেখতে পারেন। আধুনিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া কার্যকরী করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডকে কেন বেছে নেবেন?নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড জমি নিবন্ধন, খতিয়ান যাচাই, দলিল তৈরি এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত সকল আইনি সহায়তা প্রদান করে। আমাদের অভিজ্ঞতা এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আমরা আপনার বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।