জমি বিক্রির সময় কর সংক্রান্ত নিয়ম – বিক্রেতা ও ক্রেতার জন্য সম্পূর্ণ গাইড

জমি বিক্রির সময় কর সংক্রান্ত নিয়ম

জমি বিক্রির সময় কর সংক্রান্ত নিয়ম – বিক্রেতা ও ক্রেতার জন্য সম্পূর্ণ গাইড

জমি বিক্রির সময় কর সংক্রান্ত নিয়ম – বিক্রেতা ও ক্রেতার জন্য সম্পূর্ণ গাইড
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জমি বিক্রয়ের সময় কর, ভ্যাট ও ফি সংক্রান্ত অনেক নিয়ম নীতি রয়েছে, যা অনেকেই জানেন না। ফলে হঠাৎ করে কর ফাঁকি, অতিরিক্ত খরচ বা দলিল নিবন্ধনে জটিলতা সৃষ্টি হয়। আপনি জমি বিক্রির পরিকল্পনা করে থাকলে, আপনার জন্য জমি বিক্রির সময় কর সংক্রান্ত নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরি।

এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত যা যা নিয়ে আলোচনা করবো তা হলো: জমি বিক্রয়ের সময় কর প্রধানের ধরন, পরিমাণ ও কিভাবে তা পরিশোধ করবেন এবং কোন কোন দিকগুলো খেয়াল রাখা উচিত।

জমি বিক্রির সময় কর সংক্রান্ত যে ভুল ধারণা ও বাস্তবতা

আমাদের অনেকেরই জমি বিক্রয়ের সময় কর সংক্রান্ত অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করি যে জমির দলিল রেজিস্ট্রি করলেই যথেষ্ট, কর দিতে হয় না। আবার কেউ কেউ মনে করেন কর ফাঁকি দিয়ে কম মূল্যে দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারলে ভালো, যা ভবিষ্যতে বিপদ ডেকে আনতে পারে।

প্রথমত, জমি বিক্রি করে যদি কোনো লাভ হয়, তাহলে সেটি ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স এর অন্তর্ভুক্ত হয়। বিশেষ করে যে জমি গুলো ক্রয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই বিক্রি করা হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই কর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কেউ কর ফাঁকি দিতে গিয়ে কম দামে দলিল রেজিস্ট্রি করেন, তাহলে ভবিষ্যতে জমি হস্তান্তর ও উত্তরাধিকার কিংবা রেকর্ড ইত্যাদি সংশোধনের সময় বড় জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় যে স্ট্যাম্প ডিউটি ও ফি দিতে হয়, তা সরকারি নির্ধারিত পরিমান অনুযায়ী পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কর না দিলে দলিল বাতিল হয়ে যেতে পারে বা আইনি সমস্যায় পড়তে পারেন।

তাই, চেষ্টা করুন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর পরিশোধ করুন, চালান কপি সংগ্রহে রাখুন এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় একজন দক্ষ আইনজীবী বা প্রোপারটিস কনসালট্যান্টের সাহায্য নিন।

বাংলাদেশে জমি বিক্রির সময় কর ও ফি প্রধান প্রযোজ্য

জমি বিক্রির সময় কর সংক্রান্ত নিয়ম – বিক্রেতা ও ক্রেতার জন্য সম্পূর্ণ গাইড
জমি বিক্রির সময় কর সংক্রান্ত নিয়ম – বিক্রেতা ও ক্রেতার জন্য সম্পূর্ণ গাইড

জমি বিক্রয়ের সময় বিশেষ করে ৫টি ধরনের কর ও ফি প্রযোজ্য হয়:

১. পূঁজি লাভ কর (ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স)
যদি জমির দাম বিক্রয়ের সময় আগের দামের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে উক্ত লাভের ওপর কর আরোপ করা হয়।

ব্যক্তির জন্য করের হার: ১৫% (আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী)

করযোগ্য লাভ = বিক্রয় মূল্য – ক্রয় মূল্য – দলিল রেজিস্ট্রেশন খরচ

২. স্ট্যাম্প ডিউটি
জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দলিল রেজিস্ট্রেশনে স্ট্যাম্প ডিউটি প্রয়োজন হয়।

মূলত জমির ঘোষিত মূল্যের উপর ৩%-৫% হারে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ইত্যাদি বিভাগীয় শহরে এই হার তুলনামূলক বেশি।

৩. দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি
দলিল নিবন্ধনের জন্য জমির নির্ধারিত মূল্যের উপর সাধারণত ১%-২% হারে ফি নির্ধারিত।

৪. ভূমি উন্নয়ন কর (ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ট্যাক্স)
জমি বিক্রির আগেই সকল পূর্ববর্তী কর পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।

৫. স্থানীয় কর বা খাজনা
ক্ষেত্রবিশেষে পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অতিরিক্ত কর আরোপ হতে পারে।

জমি বিক্রির সময় কর পরিশোধের নিয়ম ও নীতি

কর নির্ধারণ করুন: স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে জমির বর্তমান দর জেনে নিন

ইনকাম ট্যাক্স অফিসে যান: লাভের ওপর ক্যাপিটাল Gain ট্যাক্স হিসাব করিয়ে নিন

ব্যাংকে পরিশোধ: সকল ধরণের কর, ভ্যাট নির্দিষ্ট ব্যাংকে পরিশোধ করে ব্যাংক থেকে চালান সংগ্রহ করুন

দলিল প্রস্তুত করুন: একজন অনুমোদিত দলিল লেখকের মাধ্যমে দলিল তৈরি করুন

রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিন: সরকারি নির্ধারিত স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করুন

জমি বিক্রির পূর্বে যেসব বিষয় যাচাই করে নিবেন

  • জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর ও মৌজা যাচাই করুন(অনলাইনেও যাচাই করা যায়)
  • জমির রেকর্ড সংশোধন থাকলে তা আগে সঠিক ভাবে সম্পন্ন করুন
  • নামজারি সম্পন্ন করা আছে কিনা তা চেক করুন
  • পুরনো কর বকেয়া আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন
  • জমি ক্রেতার সাথে আইনগত যে চুক্তি আছে তা সম্পন্ন করুন

কর ফাঁকি দিলে কী হতে পারে এবং শাস্তি?

কর ফাঁকি দেয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ, যার কারণে জরিমানা বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় , রেজিস্ট্রেশন বাতিল, এমনকি জেল পর্যন্ত হতে পারে। তাই সবসময় সঠিকভাবে কর পরিশোধ করুন এবং বিশ্বাসযোগ্য চালান কপি সংগ্রহ করুন।

অনলাইন কর পরিশোধ ও তথ্য যাচাই করুন

বর্তমানে অনেক জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে অনলাইনে সেবা প্রধান করে থাকে:

  • ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা যাচ্ছে অনলাইনে (https://land.gov.bd)
  • অনলাইনে থেকে জমির রেকর্ড যাচাই ও খতিয়ান ডাউনলোড সম্ভব
  • অনলাইনে স্ট্যাম্প ক্রয় ও চালান প্রিন্ট করা যাচ্ছে

উপসংহার

জমি বিক্রির সময় কর সংক্রান্ত নিয়ম ও নীতি সম্পর্কে সচেতনতা একজন বিক্রেতাকে বিভিন্ন সমস্যা থেকে রক্ষা করে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কর পরিশোধ করলে দলিল নিবন্ধন সহজ হয় এবং ভবিষ্যতে কর সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকে না। প্রয়োজনে ট্যাক্স কনসালটেন্ট বা অভিজ্ঞ এবং রেজিস্টার কারো থেকে সহায়তা নিন।

জমি বিক্রি, নামজারি, রেকর্ড সংশোধন কিংবা কর বিষয়ক ইত্যাদি যেকোনো তথ্য বা পরামর্শ পেতে যোগাযোগ করুন: নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার)

Add a Comment

Your email address will not be published.

Recent Posts

All Categories
Tags
eporcha gov bd eporsha.gov.bd খতিয়ান land.gov.bd নামজারি ট্র্যাক স্ট্যাটাস অনলাইন নামজারি আবেদন অনলাইনে খাস জমির আবেদন অনলাইনে জমি রেজিস্ট্রি আবেদন আপোষ‑বণ্টননামা জমি নামজারি ই নামজারি আবেদন প্রক্রিয়া উত্তরাধিকার আইন বাংলাদেশ উত্তরাধিকার দলিল রেজিস্ট্রি পদ্ধতি ওয়ারিশান সনদ প্রক্রিয়া বাংলাদেশ খাস জমি কাকে বলে খাস জমির কাগজপত্র খাস জমির জন্য আবেদন করার নিয়ম খাস জমির নিয়ম খাস জমির মালিকানা কিভাবে পাওয়া যায় খাস জমির রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি জমি আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকার কিভাবে হয়? জমি দখল আইনের ধারা জমি দখল ফৌজদারি মামলা জমি দখলের অভিযোগ কিভাবে করবেন জমির খতিয়ান অনলাইন চেক বাংলাদেশ জমির দলিল তৈরি জমির দলিল যাচাই জমির দলিল যাচাই অনলাইন জমির দাগ নম্বর যাচাই জমির মালিকানা যাচাই অনলাইন জমির রেকর্ড সংশোধন জমি রেজিস্ট্রি দলিল যাচাই জমি রেজিস্ট্রি প্রয়োজনীয় দলিল জমি রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি ট্রান্সপারেন্ট রেজিস্ট্রি পদ্ধতি ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড নামজারি আপোষ‑বণ্টননামা বাধ্যতামূলক ২০২৫ নামজারি আবেদন প্রক্রিয়া নামজারি করার নিয়ম বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রি নিয়ম ভূমি অফিসে জমি আবেদন প্রক্রিয়া ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ভূমি মন্ত্রণালয় ভূমি সেবা আইন ভূমিহীনদের জন্য জমি বরাদ্দ মুসলিম উত্তরাধিকার হিসেব হিন্দু উত্তরাধিকার পদ্ধতি বাংলাদেশ হিন্দু মুসলিম জমি উত্তরাধিকার

Get Free Consultations

SPECIAL ADVISORS
Quis autem vel eum iure repreh ende