
জমি আইনে মেয়েদের অধিকার
Table of Contents
Toggleজমি আইনে মেয়েদের অধিকার: বাংলাদেশে নারীদের সম্পত্তির স্বীকৃতি ও বাস্তবতা
বাংলাদেশে জমি আইনে মেয়েদের অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আইনি সংস্করণ। দেশের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করা হলেও জমি বা সম্পত্তি উত্তরাধিকার, মালিকানা ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এখনো নারী অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জমি আইনে মেয়েদের অধিকার কীভাবে নির্ধারণ হয় এবং তারা কীভাবে এ অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তা জানা সকল নারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ধর্মের ভিত্তিতে জমির উত্তরাধিকার ও জমি আইনে মেয়েদের অধিকার
ইসলামি জমি আইনে মেয়েদের অধিকার
ইসলামি শরিয়ত অনুসারে, একজন মেয়ে সন্তান বাবার সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পায়, যেখানে ছেলে পায় দুই-তৃতীয়াংশ। কোনো স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ (সন্তান যদি থাকে) অথবা এক-চতুর্থাংশ (সন্তান যদি না থাকে) পান। এটি অনেকের কাছে বৈষম্যমূলক আইন মনে হলেও, শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ন্যায্য ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।
হিন্দু ধর্মীয় আইন অনুযায়ী জমির অধিকারে মেয়েরা কোথায়?
হিন্দু ধর্মীয় আইন অনুযায়ী হিন্দু কন্যা সন্তান বাবার সম্পত্তির ওপর অধিকারের সুযোগ পান না। তবে বিধবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে, বিধবা স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তিতে জীবনকালীন ভোগের অধিকার রাখেন, যদিও সেটি বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
খ্রিস্টান আইন ও নারী অধিকারের ব্যাখ্যা নিম্নরূপ
খ্রিস্টান ধর্ম অনুযায়ী উত্তরাধিকার আইনে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে সমানভাবে সম্পত্তি ভাগ হওয়ার বিধান রয়েছে। এটি বাংলাদেশের নারী অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়েছে।
নারীদের জমির মালিকানা অর্জন ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিম্নরূপ
বাংলাদেশের সংশোধিত আইন অনুযায়ী এখন নারীরা নিজ নামে জমি কিনতে পারেন, রেজিস্ট্রেশন এবং নামজারি ইত্যাদি করতে পারেন।
জমি মালিক হতে হলে যেসব ডকুমেন্টস প্রয়োজন তা নিম্নরূপ:
- জাতীয় পরিচয়পত্র (National Identity Card (NID)
- জমির দলিল
- দলিল অনুযায়ী স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান
- নামজারি ফরম ও খতিয়ান
- ট্যাক্স রশিদসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, অনেক সময় নারী মালিকদের জমি রেজিস্ট্রি করার সময় পরিবার বা আত্মীয়দের বাধার সম্মুখীন হতে হয়, যা দূর করতে আইনি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
নারীদের জমির উপর অধিকার বঞ্চনার বাস্তব চিত্র
বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে এখনো নারীদের জমি নিয়ে ভাগ দেয়া হয় না বলে একটি প্রচলিত সংস্কৃতি রয়েছে। অনেক সময় একই পরিবারের ভাইয়েরা বোনদের উত্তরাধিকার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন। আবার কিছুজায়গায় স্বামীর পরিবার থেকে স্ত্রীকে জমি লিখে না দেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়।
এই ধরনের বাস্তবতা আমাদের দেশের নারীদের আইনগত ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে দেয়। অথচ, জমি নারীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, আত্মনির্ভরশীলতা ও সম্মানের প্রতীক। যা আমাদের সমাজে সঠিক ভাবে পর্যালোচনা করা হয় না।
নারীদের আর্থিক স্বাধীনতায় জমির ভূমিকা
নারীরা যদি জমির মালিক হন, তবে তারা শুধু একটি সম্পদের মালিকই হন না, বরং পরিবার ও সমাজে সম্মানের জায়গায় অধিষ্ঠিত হন যা সমাজের অতি গুরুত্বপূর্ণ দিক বহন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীর নামে জমি বা বসতভিটা রয়েছে, বিশেষ করে তারা ঘরোয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেশি সক্রিয় হন এবং পারিবারিক সহিংসতার হারও তুলনামূলকভাবে কম। জমির মালিকানা নারীর আত্মবিশ্বাস, আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক অবস্থান স্পষ্ট করে।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একজন নারী জমির মালিক হওয়ার পর সহজে ব্যাংক ঋণ বা সরকারি সহায়তা পেতে সক্ষম হন। জমি থাকলে মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।
তাই নারীদের হাতে জমির মালিকানা তুলে দেওয়া মানে পুরো পরিবার, এমনকি সমাজকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া। এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। জমির ন্যায়সঙ্গত বণ্টনের মাধ্যমেই আমরা একটি অধিকতর সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি।
জমি আইনে মেয়েদের অধিকার নিশ্চিত করতে করণীয়
– আইনি সহায়তা নেওয়া – অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবী ও রিয়েল এস্টেট কনসালট্যান্টের সহযোগিতা নিতে হবে।
– উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহ – সরকার অনুমোদিত ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
– রেকর্ড যাচাই – জমি কিনে বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার পর রেকর্ড (খতিয়ান, পর্চা) যাচাই জরুরি।
– সচেতনতা বৃদ্ধি – পরিবার ও সমাজের মধ্যে নারীদের জমি অধিকারের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

সরকার ও এনজিওগুলোর কার্যক্রম
বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময় নারীদের সম্পত্তির ওপর অধিকার নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
‘মুজিব শতবর্ষে গৃহহীনদের ঘর’ প্রকল্পে নারীর নাম অন্তর্ভুক্তি
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ই-নামজারি’ সুবিধা
এনজিওর মাধ্যমে নারী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও প্রশিক্ষণ
এসব উদ্যোগ নারীদের জন্য একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তনের দিক নির্দেশ করে।
উপসংহার
জমি আইনে নারীদের অধিকার একটি দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল। এই অধিকারকে বাস্তবায়নে আইনি জ্ঞান, সামাজিক সচেতনতা এবং নারীর নিজস্ব উদ্যোগের প্রয়োজন। নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড সবসময় চায়, নারীরা যেন নিজেদের জমির অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে তা অর্জন ও রক্ষা করতে পারেন।
নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড
ফেসবুক
ইনস্টাগ্রাম
এক্স (টুইটার)
ওয়েবসাইট